মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রকল্প

সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক ময়মনসিংহ জেলায় বাস্তবায়িত প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য ঃ

 

ক্রঃ নং

প্রকল্প নাম

প্রকল্পের সার সংক্ষেপ

মন্তব্য

সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি-সিভিডিপি

ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি-সিভিডিপির ২য় পর্যায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০টি সমিতি গঠিত হয়েছে। নিয়মিত শেয়ার ও সঞ্চয় বাবদ সদস্যবৃন্দ প্রায় ৬৫,০০,০০০ টাকা জমা করেছেন।  বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রশিক্ষন সহ নিয়মিত মাসিক যৌথসভার আয়োজন করা হচ্ছে। সমিতিতে পরিবারভুক্তি ৩৫১১ঃ- সদস্য ৫৪৯৯ জনঃ- বিনিয়োগ ৫৭,০০,০০০ঃ- কর্মসংস্থান ৫৪৮ জন

-

গারো সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার উন্নয়ন প্রকল্প

গারো সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রার উন্নয়ন প্রকল্পটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের একটি জনগণমুখী(Pro-People) ও উন্নয়নমুখী(Pro-Development) প্রকল্প।সরকার সমবায় আদর্শ ও দর্শনকে পিছিয়ে পড়া গারো সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রার ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে তাদের জীবনের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য এই প্রকল্পটি গ্রহন করেছেন। আমরা জানি সমবায় হচ্ছে সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টা আর সমবায় সমিতি হচ্ছে একটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন যার মাধ্যমে সদস্যরা তাদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে থাকে। বলা যায় যে, সমমনা ব্যক্তিদের সম অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগঠন হচ্ছে সমবায় সমিতি। সরকার সমবায়ের এই আদর্শিক কর্ম দর্শন কাজে লাগাচ্ছেন গারো সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রা উন্নয়ন প্রকল্প এ।

 

 

ময়মনসিংহ জেলার হালূয়াঘাট ও ধোবাউড়াউপজেলায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে । প্রতি উপজেলায় ১০টি করে সমবায় সমিতি গঠিত হয়েছে। এসব সমবায় সমিতি গারো সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রার উন্নয়ন বহুমূখী সমবায় সমিতি লিঃ নামে নিবন্ধিত হয়েছে। প্রতিটি সমবায় সমিতিতে ৪০ জন করে সদস্য আছে। দুই উপজেলায় মোট সদস্য সংখ্যা ৪০০ জন ও ৪০০ জন করে ৮০০ জন। এই ৮০০ জন সদস্যই প্রকল্পের উপকারভোগী। জেলা সমবায় অফিসার প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা সমবায় অফিসার স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

প্রকল্পটি যেহেতু গারো সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রার উন্নয়ন কল্পে গ্রহন করা হয়েছে-সেহেতু গারো সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পে বাস্তব ভিত্তিক কর্মসূচী নেওয়া হচ্ছে। সদস্যের আর্থিক উন্নয়নকল্পে প্রশিক্ষণ সহ সম্পদ সহায়তা ও নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ও হচ্ছে। এ প্রকল্প থেকে ২ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

 (ক) ১ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ  -   অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ -সমবায়ের গুরুত্ব ,সমিতি গঠন ও পরিচালনা বিষয়ক।

(খ) ১০ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ -    আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ- আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ (গরু/ছাগল পালন ও মোটাতাজাকরণ, হাঁস মুরগী   পালন, মৎস্য চাষ, বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় সব্জী চাষ, দ্রুত বর্ধনশীল ফল চাষ ।

 

এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ৮০০ জন সদস্যকেই সম্পদ সহায়তা ও নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সম্পদ সহায়তা হিসেবে প্রতি সদস্যকে ২০,০০০ টাকা এবং নগদ সহায়তা হিসেবে প্রতি সদস্যকে ২,৬০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এসব সহায়তার নিয়ে সদস্যবৃন্দ সম্পদ ক্রয় করেছেন। গরু-ছাগল-শুকর-হাস মুরগী ক্রয় ও পালন, জমি বন্ধকী রাখা ও বন্ধকী ছাড়ানো এবং মৎস্য চাষ,কৃষি কাজ, দোকান স্থাপন-ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি খাতে সদস্যগন সম্পদ সহায়তা কাজে লাগাচ্ছেন।

 

সম্পদ সহায়তা চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে এবং নগদ সহায়তা নগদে প্রদান করা হয়েছে। সম্পদ সহায়তা বাবদ এ পর্যন্ত ১,৬০,০০,০০০ টাকা বিতরণ করা কয়েছে-নগদ সহায়তা বিতরন করা হয়েছে ২০,৮০,০০০ টাকা। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার সাথে আমরা এসব সম্পদ বিতরন সম্পন্ন করেছি। সম্পদ সহায়তার ঋণ/টাকা আবর্তক তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

সম্পদ সহায়তা ঋণের সার্ভিস চার্জ ২% হিসেবে বাৎসরিক ২০,০০০ টাকায় সার্ভিস চার্জ আসে ৪০০ টাকা। ১ বছর মেয়াদী সম্পদ সহায়তা ঋণের ১ম কিস্তিতে সম্পদ সহায়তা ঋণ নিয়েছিলেন ১৭৪ জন। দ্বিতীয় কিস্তিতে ঋণ নিয়েছিলেন ৩২০ জন। তৃতীয় কিস্তিতে ঋণ পেয়েছেন ৩০৬ জন। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রথম কিস্তির ১৭৪ জন সদস্য ঋণ পরিশোধ করেছেন এবং দ্বিতীয় বারের মত আবারো ঋণ নিয়েছেন। ঋণ পরিশোধের হার ১০০% । ঘুর্নায়মান এসব ঋণ পরিশোধের পর সদস্যদের মাঝে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। এটা আমাদের দেশের সরকারী ঋণ সংস্কৃতি  ও আদায়ের ক্ষেত্রে একটি মাইল ফলক বলে আমরা মনে করি।

 

-

সমবায় ভিত্তিক দুগ্ধ উৎপাদন নিশ্চিতকরণ

ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঘোগা দাওগাও ও বাসাটিকাশিমপুর ইউনিয়ন-এ দুইতি দুগ্ধসমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছ। মোট সদস্য ২৫০ জনঃ- শেয়ার মূলধন ৩,৭৩,০০০ টাকাঃ- সঞ্চয় ৩,২১,৫০০ টাকা। মোট মূলধন ৬,৯৪,৫০০ টাকা।প্রকল্প কার্যালয় থেকে উন্নত জাতের গাভি ক্রয় করার জন্য ১৭৫ জন সদস্যের মাঝে ২,১৩,৩৩,৯২৫ টাকার চেক বিতরন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

  (হরিদাস ঠাকুর)

জেলা সমবায় অফিসার

ময়মনসিংহ


Share with :

Facebook Twitter